Getting your Trinity Audio player ready...

মেয়েদের জন্য এক নম্বর পেশাদারি বলুন বা কর্মমুখী কোর্স, আজকাল নার্সিংকেই বোঝায়। বর্তমানে বিশেষত মেয়েদের জন্য উচ্চমাধ্যমিকের পরই এমন কী কী কোর্স আছে, যা করে উঠলেই চাকরি, তাও আবার সরকারি, একবারে বাঁধা? নার্সিং পড়তে মেয়েদের এবং সর্বোপরি তাদের অভিভাবকদের এত চাহিদা কেন? তারই সুলুক সন্ধান এই প্রতিবেদনে। লিখেছেন চিরদীপ ভট্টাচার্য।

মেয়েদের জন্য সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং নিরাপদ কোর্স আর সর্বোপরি পেশাটির গুরুত্ব এ রাজ্য প্রতি বছর দেখছে।
কীভাবে?

এএনএম পড়ানো হয় রাজ্যের প্রায় ১০টি প্রতিষ্ঠানে। আসন প্রায় ৫০০। প্রতি আসনের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা গড়ে ৫০-৬০ জন। জিএনএম পড়ানো রাজ্যে প্রায় ৬২টির মতো (সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে) প্রতিষ্ঠানে যেগুলিতে মোট আসন প্রায় ৩০০০। আসনপিছু আবেদনকারীর সংখ্যা ৫০-৫০। নার্সিংয়ের সেরা কোর্স বিএসসি নার্সিং। মোট ২০টি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট আসন বর্তমানে ১,০৬০। প্রবেশিকায় বসে প্রায় ২৫ হাজার, মানে, আসনপিছু প্রায় ২৫ জন।

নার্সিংয়ের কোর্স
এ রাজ্যে নার্সিং কোর্সগুলির নিয়ন্ত্রক ওয়েস্ট বেঙ্গল নার্সিং কাউন্সিল। নার্সিং স্কুল বা কলেজের শর্তসাপেক্ষ অনুমোদন, মানোন্নয়ন, পাঠ্যসূচি তৈরি, কোর্স শেষে পড়ুয়াদের পেশাদারি লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন দেওয়া ইত্যাদি পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে এই কাউন্সিল (ওয়েবসাইট: www.wbnursingcouncil.org)। বর্তমানে উচ্চমাধ্যমিক যোগ্যতায় পড়া যায়, নার্সিংয়ের এমন চালু কোর্স তিন ধরনের। এর দুটি ডিপ্লোমা এবং একটি ডিগ্রিস্তরের।
জিএনএম বা নার্সিং অ্যান্ড মিডওয়াইফারি। এটিও ডিপ্লোমা কোর্স, তবে মেয়াদ ৩ বছর। বর্তমানে এ রাজ্যে সামান্য কমবেশি প্রায় ৬২টির মতো সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সর্বমোট প্রায় ৩০০০ আসনে এই কোর্সটি করানো হয়। এই কোর্সের মধ্যে রয়েছে ৬ মাসের বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ। মেয়াদেই উপার্জন শুরু। সরকারি হাসপাতালে এই কোর্সের পড়ুয়ারা মাসে ৪ হাজার টাকা স্টাইপেন্ড পায়।
মেয়েরা তো বটেই (সায়েন্স, আর্টস, কমার্স- যে কোনও শাখার), ছেলেদের জন্যও দুটি প্রতিষ্ঠানে ৭০টি আসনে এই কোর্সে ভর্তির সুযোগ থাকে। এখানেও কোর্স শেষে সরকারি বা বেসরকারি চাকরি বাঁধা। রাজ্য সরকারের তরফে নিয়োগ হয় গ্রুপ ‘বি’ আগের বেতনক্রম : ৭,১০০-৩৭,৬০০ গ্রেড পে : ৩,৬০০। মানে, শুরুতে মাসিক বেতন মিলত সামান্য কমবেশি ১৫-১৬ হাজার টাকা।
শুরুতে নিয়োগ মেলে ক্লিনিক্যাল স্টাফ নার্স হিসেবে। তিন বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে বিএসসি নার্সিং বা ডিগ্রিস্তরের সমতুল পোস্ট-বেসিক নার্সিং (২ বছরের) করা যেতে পারে। বর্তমানে এ রাজ্যে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১১-১২টি প্রতিষ্ঠানে ৬৫০-৭০০ আসনে পোস্ট-বেসিক বিএসসি নার্সিং পড়ার সুযোগ মেলে। এই কোর্সটি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভারসিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস-এর পাশাপাশি ইন্দিরা গান্ধী রাষ্ট্রীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (এক্ষেত্রে কোর্সটি ৩ বছরের) থেকেও করা যেতে পারে। পোস্ট-বেসিক করার পর তিন বছর কাজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে ফের এমএসসি নার্সিং (ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ হেলথ সায়েন্সেস) করা যেতে পারে। শুরুতে স্টাফ নার্স (ক্লিনিক্যাল) পদে যোগ দিয়ে ধাপে ধাপে পদোন্নতি পেয়ে অ্যাকাডেমিক ক্ষেত্রে সর্বাধিক স্কুল অফ নার্সিংয়ের সিস্টার টিউটর কিংবা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সর্বাধিক কোনও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল নার্সিং-ইন-চার্জ হওয়া যেতে পারে।
এই কোর্সটি করার জন্য অন্তত পক্ষে উচ্চমাধ্যমিক বা স্বীকৃত কোনও বোর্ড থেকে ১০+২ বা সমতুল বোর্ড পরীক্ষায় ৪০% নম্বর নিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। উচ্চমাধ্যমিকে পাওয়া নম্বরের ভিত্তিতে জেলাভিত্তিক মেধাতালিকা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ মেলে। প্রতি বছর সাধারণত মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ এই কোর্সে ভর্তির সরকারি বিজ্ঞপ্তি (ওয়েবসাইট: www.wbhealth.gov.in) বেরোয়। বেসরকারি নার্সিং স্কুলগুলি আলাদাভাবে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে পড়ুয়াদের ভর্তির আহ্বান জানায়।
জিএনএম এবং বিএসসি নার্সিং কোর্স উত্তীর্ণ আগে রাজ্য সরকারি চাকরিতে গ্রুপ ‘বি’তে নিয়োগ পেলেও দুটো আলাদা গ্রেড ছিল— বিএসসি নার্সিং থাকলে নিয়োগ হত গ্রেড ১-তে যার বেতন-কাঠামো ছিল এ রকম : ৯,০০০-৪০,৫০০ গ্রেড পে : ৪,৪০০ এবং জিএনএমরা গ্রেড-২-তে সামান্য কম বেতনে নিয়োগ পেতেন। কিন্তু, সম্প্রতি রাজ্য সরকার জিএনএম এবং বিএসসি নার্সিং, দুই কোর্স মেদেরই গ্রেড ২-তে নিয়োগের সুপারিশ করেছে। জিএনএম-এর মতো বিএসসি নার্সিংয়ের পরেই সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিংহোমে চাকরি পাকা। তবে, সাম্প্রতিক ট্রেন্ড বলছে, ক্লিনিক্যালের বদলে বেশির ভাগ বিএসসি নার্সিং পাস-আউট এমএসসি করে অ্যাকাডেমিক লাইনে কেরিয়ার বেছে নিচ্ছেন। বর্তমানে রাজ্যে ৯টি প্রতিষ্ঠানে মোট ২০০টির মতো আসনে এমএসসি ইন নার্সিং পড়ার সুবিধা মেলে।