
আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইউনেস্কো’র স্বীকৃতি অনুযায়ী,
‘পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রুতিমধুর ভাষাটি হলো বাংলা’।
অথচ খোদ বাঙালিদের মধ্যে নিজেদের মাতৃভাষার ওপর কি চরম অবহেলা!
কি নিদারুন অবজ্ঞা!কথাবলার সময়, মোবাইলে লেখার সময় বাংলা শব্দদের গরু খুঁজতে হয়।
ইদানিং বাঙালিদের একটা মরিয়া চেষ্টা হলো, বাংলায় কথা বলতে পারিনা, সেটা আরেকটা বাঙালিকে আপ্রাণ বোঝানো। একটু লক্ষ্য করলে দেখা যায়, কথায় কথায় বাংলা শব্দের জায়গায় অনাবশ্যক হিন্দি এবং ইংরেজি শব্দের ব্যবহারের অভ্যাস। এই রোগ শুধু ইংরেজি মাধ্যমে পড়া ছেলেমেয়েদের নয়, বাংলা মাধ্যমের পড়ুয়াও দ্রুত রপ্ত করেছে।
এঁদের বেশিরভাগকে, নিজেদের মাতৃভাষাটাকে ভালোবাসাতো দুরঅস্ত, বরং অবজ্ঞা করতে শেখানো হয়েছে, প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষে।
ছোট থেকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তির স্টেটাস। কথায় কথায় ভিনভাষী শব্দ ব্যবহারের ফ্যাশন। এবং সেই শিশুবেলা থেকে বড়রা হাতেধরে ছোটদের শেখাচ্ছেন, কীভাবে গুরুত্বহীন করতে হয় নিজেদের মাতৃভাষা- ‘বাংলা’কে। ‘মা’কে মাম্মা, বাবাকে পাপা বা ড্যাডি দিয়ে সেই শিশুবেলা থেকে যে ভাষার অবহেলার শুরু, সকালে আসা বাংলা খবরের কাগজটা উল্টে দেখার অনভ্যাসে তার ভাষার প্রতি আবেগটা খতম।
বড়রা কি সত্যিই চান, তাঁদের সন্তানরা নিজের মায়ের ভাষা, বাংলাটা ভালোভাবে জানুক, শিখুক?
এই জিজ্ঞাসার জবাব একটুখানি ‘হ্যাঁ’ হলে, আমরা আমাদের মাতৃভাষাকে ভালোবাসবো। নিজেদের হারানো শেকড় খুঁজতেই একটা ছোট্ট প্রয়াস ‘আত্মদীপ- বাংলা অলিম্পিয়াড’।
নিজের মা’কে, মায়ের ভাষাকে ভালোবাসার একটা আন্তরিক প্রচেষ্টা।